গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোর নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৭


গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোর নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি (২০২৫–২০২৮) এর অভিষেক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, প্রবাসে ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠন এবং মাতৃভূমির কল্যাণে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা।
টরন্টোর হাঙ্গেরিয়ান কানাডিয়ান কালচারাল সেন্টারে রবিবার (০৪ জানুয়ারি ২০২৫) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রারম্ভে মাহদী জালাল চৌধুরীর কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি নওয়াজ চৌধুরী। তিনি বলেন, "গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টো শুধুমাত্র একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি প্রবাসে গোলাপগঞ্জবাসীর পরিচয়, ঐক্য ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কর্মকাণ্ডে ফাউন্ডেশনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে।" 
নওয়াজ চৌধুরী প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, "তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।" তিনি বাংলাদেশ, বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সদস্যদের আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদের সদস্য (এমপিপি) ডলি বেগম বলেন, "প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশি কমিউনিটি তাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছে, যা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।" তিনি উল্লেখ করেন, গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোর মতো সংগঠনগুলো প্রবাসে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশে মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডলি বেগম এমপিপি আরও বলেন, "কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা শেখার সুযোগ পাচ্ছে, যা একটি শক্তিশালী বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনে সহায়ক।" তিনি নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটিকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের একে একে মঞ্চে আহ্বান জানান অভিষেক অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মিসবাহুল কাদির ফাহিম। এরপর নির্বাচন কমিশনের প্রধান মইন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এসময় নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য লায়েক চৌধুরী ও আরাফাত আহমদ সুজন উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের পর বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত সভাপতি সাব্বির চৌধুরী লিটন, সাধারণ সম্পাদক আবু জহির সাকিব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবির আহমদ শাহিন এবং সাদ চৌধুরী।
সভাপতি সাব্বির চৌধুরী লিটন বলেন, "সকলের সহযোগিতায় গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোকে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ফাউন্ডেশনের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।" তিনি আরও জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা হবে, বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অসহায় মানুষ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা, প্রবাসী কমিউনিটির সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফাউন্ডেশন চারজন কৃতি ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান করে। তারা হলেন— বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ বদরুল আলম, কমিউনিটিতে প্রথমবারের মতো জানাজা ও দাফন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য শামশের আলী হেলাল, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউর রহমান এবং টরন্টোর বাংলাদেশ স্মৃতিস্তম্ভের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার রেজওয়ান রহমান।
এছাড়া, অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার রেজানুর রহমান, আইনজীবী মানু চৌধুরী, সারওয়ার চৌধুরী, এসএম নুরুল্লাহ তারুন ও আহসানুল হাফিজ প্রমুখ।
অতিথিরা বলেন, "প্রবাসে গোলাপগঞ্জবাসীর ঐক্য, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো এই ফাউন্ডেশন।" তারা আরও উল্লেখ করেন, নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে।
অতিথি এমপিপি ডলি বেগমকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাবেক সভাপতির সহধর্মিনী ফারহানা মমতাজ শান্তা ও বর্তমান সভাপতির সহধর্মিনী রুমানা চৌধুরী। সম্মাননা বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ফাবিহা চৌধুরী ও দিয়ানা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্লাইডশো’র মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের পূর্ব কার্যক্রম প্রদর্শিত হয়। নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন অর্থ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ সিপিএ ও মোক্তার হোসেন বাহার। প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠানে টরন্টোতে বসবাসরত গোলাপগঞ্জবাসী স্বপরিবারে উপস্থিত ছিলেন।