
মরার একদিন আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের। এমনটাই উঠে এসেছে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রে।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ম্যানহাটানের তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যানের নামে এই বিবৃতির খসড়া ২০১৯ সালের ৯ আগস্টে প্রস্তুত করা হয়। অথচ এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১০ আগস্ট। এনডিটিভি।
খসড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এপস্টেইনকে কারাকক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া উলেখ করা হয়েছিল-এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের আদালতে ন্যায়বিচার প্রভাবিত হতে পারে, তবে অন্যান্য তদন্ত যেমন : ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। নথিতে একাধিক সংস্করণে নাম, ফোন নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য ভিন্নভাবে গোপন করা হয়েছিল।
প্রকাশিত নথি অনুসারে, এপস্টেইনকে তার কারাকক্ষে কমলা রঙের কোনো চাদর বা শার্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়ার মাধ্যমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও এ নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক ও বিশ্লেষণ চলছে।
সিবিএসনিউজের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে কারাগারের নজরদারি ক্যামেরায় একটি কমলা রঙের অবয়ব নড়াচড়া করতে দেখা গেছে, যা সম্ভবত একজন কয়েদি বা সংশোধনাগারের কর্মকর্তা হতে পারে।
প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পরের ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১০ আগস্ট ভোর ৬টা ৪৯ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে স্ট্রেচারে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। কিছু ছবিতে তার নাম ভুলভাবে ‘জেফারি’ লেখা হয়েছিল।
নিউইয়র্কের মেডিকেল পরীক্ষার ৮৯ পৃষ্ঠার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এপস্টেইনের থাইরয়েডের তরুণাস্থি ফেটে যাওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই নথি ও ছবি প্রকাশের মাধ্যমে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আরও রহস্য এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।